নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: কোন অজ্ঞাত কারণে বার বার বলা সত্ত্বেও অযোগ্য শিক্ষকদের নামের তালিকা এসএসসি প্রকাশ করছে না। গত বহুদিন ধরে এই প্রশ্ন করে আসছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিকমহল। বৃহস্পতিবার সেই প্রশ্ন তুললেন উচ্চ আদালত। কেন অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ল কমিশন। আগামী সাত দিনের মধ্যে এসএসসির ওয়েবসাইটে অযোগদের নামের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ‘কমিশন কেন অযোগ্যদের নাম লুকোতে চাইছে?’ প্রশ্ন তুলে রীতিমতো কমিশনকে চরম নিন্দা করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চের তরফে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, “নতুন যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে তার উপর প্রতিমুহূর্তে নজর রাখছে সুপ্রিম কোর্ট। যদি কোনও রকম গলদ হয়, সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করবে শীর্ষ আদালত।” এবার রাজ্যের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর আসে নি। একটা প্রশ্ন বার বার করে এসেছে যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই রাজ্য অযোগ্যদের বাঁচাতে চাইছেন।
বছরের পর বছর ধরে নানা দাবি উঠলেও কোনো কারণেই অযোগ্য শিক্ষকদের অর্থাৎ যারা লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে চাকরি কিনেছে তাদের নাম এসএসসি প্রকাশ করছে না। একটা বিষয় খুবই স্পষ্ট যে একবার অযোগ্যদের নাম সামনে আসলে তারা বিদ্রোহ করবে। যে নেতা, মন্ত্রীরা তাদের থেকে কয়েক লক্ষ টাকা খেয়ে রেখেছে তাদের নাম সামনে চলে আসবে। সমস্ত রাজ্যে এক ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরী হবে। আদালতে এই দিন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “এই অযোগ্যরা বহু মানুষের জীবন নষ্ট করেছে। অযোগ্যদের নিয়োগের নেপথ্যে ছিল কমিশন।” এর আগে গত বৃহস্পতিবারই স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবীকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার বলেন, ”আপনারা এখনও নিজেদের পছন্দের অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরিতে ঢোকাতে চাইছেন? এটা লজ্জাজনক। ট্রুলি শকিং। আমরা আগেই বলেছি, কোনও ভাবেই কোনও অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।” এখন দেখার এবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু কোন পথে যান।