নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা শিবির।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কাকদ্বীপ: বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া, সংবাদ মাধ্যম, পত্রিকায় যে বিষয়টা প্রথমেই নজরে পড়ে, সেটা হলো শারীরিক ভাবে নারী নিগ্রহ, ধর্ষণ, খুন বিষয়ক একাধিক ঘটনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংসার বা কর্মক্ষেত্র, সকল জায়গাতেই মহিলা নিরাপত্তার অভাব লক্ষ্য করা যায়। আড়াই বছরের শিশু থেকে আশি বছরের বৃদ্ধা সকল ক্ষেত্রেই হিংস্রতা যেন থাবা বাগিয়ে বসে আছে। আর এই ধরনের নারী নির্যাতন রাজ্যের ভাবমূর্তির ওপরে যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে।সকল ক্ষেত্রেই প্রশাসনের পাশাপাশি মহিলাদের নিজেকেও সচেতন ও সুরক্ষিত রাখতে হবে। নিজেদের কি করে সুরক্ষিত ও সচেতন রাখা যায়, কিভাবে আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করা যায়। সেই বিষয়ে বর্তমানে বেশ কিছু জায়গায় প্রশাসন তৎপরতার সাথে মহিলাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করছে।শনিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এমনই একটি মহিলা সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। এই জেলার সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ে এই সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের সচেতনতা শিবিরে অংশ নেয় কাকদ্বীপ
ও নামখানা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। শিবিরে ছাত্রীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন, রাজ্য মহিলা কমিশনের সভাপতি, কাকদ্বীপের বিধায়ক, প্রশাসনিক দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ, নামখানা ও কাকদ্বীপ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক, কাকদ্বীপ মহাকুমা শাসক, সুন্দরবন মহাবিদ্যালয় এর অধ্যক্ষ ও অধ্যপিকা প্রমূখ।রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই মহিলাদের ওপরে বিভিন্ন রকমের নির্যাতনের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির খবরও পাওয়া গেছে।
এই ধরনের বিপদে পড়লে মহিলারা কিভাবে নিজেকে সুরক্ষিত করবেন, কিভাবে প্রতিরোধ করবেন, এদিনের সচেতনতা শিবিরে এটাই ছিল আলোচনার মুখ্য বিষয়বস্তু। এদিন প্রশাসনের তরফে ছাত্রীদের অভিভাবকদেরও যথেষ্ট সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীদের সাথে অভিভাবকদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলারও পরামর্শ দেওয়া হয়। যাতে সহজেই মেয়েরা তাদের বহিরাগত সমস্যার কথা নিঃসংকোচে অভিভাবকদের কাছে তুলে ধরতে পারেন। এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রাথমিক সমস্যার সমাধানের পরামর্শ নিতে পারেন। এই কর্মসূচিতে একেবারে শেষ পর্যায়ে ছাত্রীরা আত্মরক্ষা ও আত্মনির্ভরতা বিষয়ে আধিকারিকদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং আধিকারিগণ সেই বিষয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মতে প্রশাসনের এই ধরনের উদ্যোগ নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ধরনের প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ আগামী দিনে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। মহিলারা যদি বিভিন্ন রকমের সাইবার প্রতারণা থেকে শুরু করে সামাজিক ভাবেও সতর্ক থাকেন এবং যেকোনো বিপদে নিজেই শারীরিকভাবে প্রতিরোধ সক্ষম হন, তাহলে এই ধরনের সমস্যা অনেকাংশেই কম হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিক এবং অভিভাবকরা।