বন্দনা ভট্টাচার্য্য, হুগলী : শ্রীরামপুরের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী মাহেশের রথ অবহেলায়। অনাদরে পথের পাশে দাড়িয়ে। জগন্নাথ মন্দিরের সামনে জি টি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার ধারে রথটি দেখা যায়। এই চিত্র দীর্ঘ দিনের। ভারতবর্ষের দ্বিতীয় বৃহত্তম রথ হুগলি জেলার শ্রীরামপুর মাহেশের রথ। পুরির পরেই এই রথ। শোনা যায় এক সময় এই রথ যাত্রা উৎসবে বহু বিখ্যাত মুনি ঋষিরাও এসেছিলেন। প্রথমে রথটি ছিল কাঠের তৈরী। পরবর্তীকালে শ্যামবাজারের বসু পরিবারের সদস্য কৃষ্ণ চন্দ্র বসু মার্টিন এন্ড বার্ণ কোম্পানি থেকে কুড়ি লক্ষ টাকায় লোহার এই রথ তৈরী করে দেন। চারতলা লোহার কাঠামোর উপর কাঠ দিয়ে তৈরী। এর উচ্চতা পঞ্চাশ ফুট, ওজন একশ পঁচিশ টন।

মাহেশের জগন্নাথ দেব এবং মন্দির নিয়ে মানুষের মনে যতটা আবেগ, ভক্তি, বিশ্বাস রয়েছে। ঠিক ততটাই আবেগ, ভক্তি, বিশ্বাস রয়েছে মাহেশের রথ নিয়েও। কথিত আছে স্বয়ং জগন্নাথ দেবের নির্দেশে এই রথের প্রচলন হয়েছিল। সরকারি তরফে বা মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে বিগ্রহ ও মন্দির সংস্করণ নিয়ে যতটা সচেতনতা রয়েছে ঠিক ততটাই উদাসীনতা লক্ষ করা যায় রথটি পরিচর্যার ক্ষেত্রে। আষাঢ় মাসে রথ যাত্রা উৎসব উপলক্ষ্যে প্রাথমিক ভাবে রথটির সংস্কার হলেও উৎসবের শেষে আবারও সেটির ঠাঁই হয় রাস্তার পাশে। রথের চারপাশে ইমারতি দ্রব্য স্তুপাকৃত ভাবে রাখা রয়েছে। ধুলোর আবরণ ও চারপাশের কাঠের পাটাতনের জীর্ণতা সহজেই বুঝিয়ে দেয় ঐতিহ্যবাহী রথটির আদর প্রত্যেক বছরে উৎসবের সাত দিনের জন্য।
কিন্তু মহত্ম্যপূর্ণ রথটির কেন এমন দশা? এই বিষয়ে মন্দিরের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানালেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাহেশকে “পর্যটন কেন্দ্র” ঘোষনা করেছেন। তিনি সেই সময় রথটি সংস্করণ ও সংরক্ষনের কথা বললেও তেমন করে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রথযাত্রায় অনেক ভক্ত রথের ওঠে। রোদে, বৃষ্টিতে লোহায় মরচে ধরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই প্রশঙ্গে শ্রীরামপুর পৌরসভার পৌরপ্রধান গিরিধারী সাহা বলেন, দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। তবে এটা পৌরসভার দায়ীত্বে নেই। রথটি পারিবারিক সম্পতি। জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাষ্টি বোর্ড আছে। তাদেরই দায়ীত্ব রথটিকে সংস্করণ ও সংরক্ষণ করার। তারা কেনো করছে না? প্রতি বছর রথের আগে পারিবারিক সদস্য, ট্রাষ্টির সদস্য ও প্রশাসনের তরফে একটা মিটিং হয়। তাতেই সিদ্ধান্ত হয় প্রাথমিক ভাবে রথটিকে মেরামত করার। কিন্তু প্রাথমিক নয় রথের আমূল সংস্কারের প্রয়োজন আছে। যদি পৌরসভার দায়িত্ব থাকতো তাহলে রথের দেখভালের সব ব্যবস্থা পৌরসভাই করতো বলে জানিয়েছেন পৌরপ্রধান গিরিধারী সাহা।