Saturday, August 30, 2025
Ad

সুন্দরবনে ড্রাগন ফলের চাষ করে ত্বাক লাগালো স্বনির্ভর দলের মহিলারা।

Must read

গোপাল শীল, রায়দিঘি : তন্তু ও খনিজ পদার্থযুক্ত ফল হল ড্রাগন। বিভিন্ন ধরনের মাটিতে এবং জলের ব্যবহার বেশি না করেও এই ফলের চাষ করা সম্ভব। এই ফল দারুন উপকারি। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বর্তমানে ড্রাগন ফলের চাষ হয়। এবার বাংলার এই জেলাতেও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে শুরু হয়েছে ড্রাগন চাষ। সুন্দরবনের লবণাক্ত পরিত্যক্ত কুড়ি কিলোমিটার জুড়ে নদী বাঁধের পাশে ড্রাগন ফলের চাষ করে ত্বাক লাগালো স্বনির্ভর দলের মহিলারা।

Advertisement

এবার ড্রাগন ফলের চাষের ক্ষেত দেখা গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রায়দিঘির নগেন্দ্রপুর এলাকাতেও। মুক্তি ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে প্রায় তিনশত মহিলা এলাকার ২০ কিলোমিটার নদী বাঁধের পাশে ড্রাগন ফলের চাষ করেছে, গাছগুলি দেখাশোনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মুক্তির তরফে ওই মহিলাদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি প্রতি এক কিলোমিটারে যে কয়টি ড্রাগন গাছ রয়েছে সেইসব গাছে উৎপন্ন ফল বাজারে বিক্রি করা হয়। সেই অর্থ ছয় থেকে সাত জন মহিলার মধ্যে ভাগ করা হয়।

dragon fruit farming in west bengal raidighi
dragon fruit farming in west bengal raidighi

বিভিন্ন ধরনের মাটিতে এবং কম জল ব্যবহার করেও সহজেই এই ফলের চাষ করা সম্ভব। ড্রাগন ফলের মধ্যে রয়েছে তন্তু বা ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ দ্রব্য এবং এটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। তাই বিক্রি করে মুনাফাও হয় ব্যাপক। সুন্দরবনের রায়দিঘির নগেন্দ্রপুর বন্যা কবলিত এলাকা। তাই এখানকার মাটি অনেকটাই লবণাক্ত। মুক্তির তরফে প্রথমে এই ড্রাগন চারাগুলিকে লবণাক্ত মাটির উপযোগী করে তোলা হয়। তারপর ওই চারাগুলিকে নদী বাঁধের ধারে ধারে রোপন করা হয়েছে।

মূলত রায়দিঘির নগেন্দ্রপুর এলাকায় উপার্জনের জন্য বাড়ির পুরুষেরা কেউ ভিন রাজ্যে আবার অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ কাকড়া ধরতে যান।
বর্তমানে মুক্তির সহযোগিতায় পরিত্যক্ত নদী বাঁধের ধারে ড্রাগন চাষের ফলে এলাকার মহিলারা স্বনির্ভর হয়েছেন। পাশাপাশি বাড়ির পুরুষদের ভিন রাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা কমেছে। এমনকী, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গলে কিংবা নদীতে মাছ কাকড়া ধরতে যাওয়ারও প্রয়োজনীয়তাও কমেছে। কারণ এই ড্রাগন চাষের কাজে এলাকার মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষরাও সামিল হয়েছেন। আস্তে আস্তে মিটছে আর্থিক সমস্যা।

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Latest article