বন্দনা ভট্টাচার্য, হুগলি: Cyber fraud চন্দননগর সাইবার থানার বিরাট সাফল্য। পাঁচ সাইবার প্রতারক গ্রেফতার। অধিক মুনাফা লাভের আশায় ফেসবুকের শেয়ার ট্রেডিং বিজ্ঞাপন দেখে প্রতারণার ফাঁদে পড়েছিলেন এক ব্যক্তি। প্রতারিত ব্যক্তির নাম সজল পান্ডে। তিনি হুগলির উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১১ ই জানুয়ারি সজল পান্ডে ফেসবুকের একটি শেয়ার ট্রেডিং বিজ্ঞাপন দেখে তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপরেই প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তাঁকে অধিক মুনাফা লাভের প্রলোভন দেখায়। কোন সংস্থায় টাকা জমা রাখলে অধিক মুনাফা পাবেন, সেই বিষয়েও সজল বাবুকে পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই প্রলোভনে পা দিয়ে অধিক মুনাফা লাভের আশায় সজল বাবু বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ৫৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জমা করেন। এরপরে মুনাফা অর্থ তুলতে গিয়ে বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন।এরপর তিনি চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে সাইবার থানার পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়। সজলবাবু যে একাউন্ট গুলোতে টাকা পাঠিয়েছিলেন, সেই একাউন্টের খোঁজ করেই প্রতারকদের হদিশ পান তদন্তকারীরা।
হুগলির ব্যান্ডেল, মালদা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি, এবং মন্দিরবাজার এলাকা থেকে মোট পাঁচজন প্রতারককে গ্রেফতার করে সাইবার থানার তদন্তকারী দল। ধৃতদের নাম, সিদ্দিক আলম চৌধুরী, অরুন মন্ডল, বিক্রম হালদার, প্রদ্যুৎ মন্ডল ও সৌরজিৎ কর। ধৃতদের কাছ থেকে প্রচুর পাসবুক, চেকবুক, এটিএম কার্ড, কিউ আর কোড মেশিন, আধার কার্ড, মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। (Cyber fraud)ভিতরে এদিন চন্দননগর আদালতে পেশ করা হলে, আদালত এদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এই বিষয়ে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে এ বৃহস্পতিবার বিষয়ে সবিস্তারে জানানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রশাসনিকভাবে সাধারণ মানুষকে বারবার সচেতন করা হচ্ছে যে,কোন রকম অনলাইন বিজ্ঞাপন টেলিফোন বা কোন গ্রুপের মাধ্যমে অধিক মুনাফা লাভের আশায় কোনো প্রলোভনে পা না দিতে। একাধিক সচেতনতা মূলক শিবির ও করা হয়েছে। কিন্তু তবুও মানুষ সর্বতোভাবে সচেতন হচ্ছেন না। প্রলোভনে গিয়ে সর্বস্ব খুইয়ে তারপর পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন।