সর্বধর্ম সমন্বয়ের সংহতি মিছিল।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলপি: বিভাজন-ভেদাভেদ নয়, বিবিধের মাঝে মহামিলনের বার্তা দিতে সংহতি যাত্রার ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি কালীঘাট মন্দির পরিদর্শন করে পূজা দিয়ে হাজরা পার্ক থেকে সংহতি যাত্রা শুরু করেন।
সোমবার সেই সর্বধর্ম সমন্বয়ের মিছিল থেকে ধর্মের নামে ভেদাভেদ ভুলে বাংলা জুড়ে সম্প্রীতির বাতাবরণ বজায় রাখার বার্তা দেন। হাজরা থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত সংহতি মিছিলের নেতৃত্ব দেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে রাজ্যের সব জেলায় ব্লকে ব্লকে পালিত হয় এই সংহতি মিছিল।
এদিনের এই সংহতি মিছিল নিয়ে সাধারণ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে তুমুল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। অযোধ্যায় রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা কেন্দ্র করে একদিকে চলছে এলাকায় এলাকায় শ্রীরামচন্দ্রের পূজা। অন্যদিকে তৃণমূল ব্লকে ব্লকে পালন করলো সংহতি যাত্রা। সোমবার বিকাল তিনটা নাগাদ কুলপি বিধায়কের নেতৃত্বে সম্প্রীতি যাত্রা শুরু হয় শ্যামবসুরচক থেকে। ১১৭নং জাতীয় সড়কে কয়েক হাজার দলীয় কর্মী সমর্থক এই যাত্রায় পা মেলায়। মিছিল শেষে কুলপি মোড়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য নারায়ণ ভৌমিক ও জামাল আহমেদ খান, কুলপি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুপ্রিয় হালদার, যুব সভাপতি সামসুর আলম মীর, কুলপি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহকারি সভাপতি সহ অন্যান্য নেতৃত্ব বর্গ।
ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুপ্রিয় হালদার সম্প্রীতি যাত্রার মঞ্চ থেকে বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী রামচন্দ্র কে নিয়ে এলাকায় দাঙ্গা বাধাতে চাইছে। কেউ এই প্ররোচনায় পা বাড়াবেন না, ধর্ম যার যার উৎসব সবার এই কথা মাথায় রেখে সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।
বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার জানান, মঙ্গলবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। সেটাকে সামনে রেখে আজকে এই সম্প্রীতি যাত্রা। রাম মন্দির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরাও রাম যে শ্রদ্ধা করি। রাম মন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রে শঙ্করাচার্য দের মতে ত্রুটি রয়েছে। একটা অসম্পূর্ণ মন্দিরে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা করে হিন্দু ধর্মকে বড়ো করলো নাকি ছোটো করলো সেটা ভাবতে হবে। নরেন্দ্র মোদী শ্রীরামচন্দ্র কে নির্বাচনী যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা করার পিছনে লোকসভার আগে বিজেপির একটা চাল। বিধায়ক আরো বলেন, বিজেপি এসব করে রামচন্দ্র কে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে নাকি ছোটো করার চেষ্টা করছে সেটা বাংলার মানুষকে এবং হিন্দু সমাজকে ভাবতে অনুরোধ করছি। মোদী রামচন্দ্র কে হাতিয়ার করে পুনরায় ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। তবে, আসা আর পূরণ হবেনা।