নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: শুক্রবার বিকেলে মেট্রোরেলের একাধিক প্রকল্প চালু করে সন্ধ্যায় তিনি দমদমে প্রকাশ্য সভা করেন। সেখানেই নানা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে দাগি মন্ত্রী বিলের কথা তুলে আনেন। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীদের ৩০ দিন জেলে থাকলেই পদত্যাগ। এই বিল নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ শানাতে গিয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম মনে করিয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদী। তুললেন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং রেশন কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ। বললেন, ‘জেলে যাওয়ার পরও কুর্সি ছাড়তে চাননি’। কেন এই আইন আনা হল? তা নিয়ে বলতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘এবার লোকসভায় দুর্নীতিবিরোধী বিল এনেছিল ভারত সরকার। আমাদের দেশে ছোট ছোট সরকারি কর্মচারী যিনি চালক, সাফাইয়ের কাজ করলেও ৫০ ঘণ্টায় জামিন না পেলে আপনা-আপনি চাকরি থেকে সাসপেন্ড হয়ে যান। ছোট কর্মচারি ২ দিন জেলে থাকলেই জীবন শেষ হয়ে যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী জেলে গেলে কোনও আইন নেই।’এরপরেই নাম না করে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন মোদী। দমদম সেন্ট্রাল জেলের মাঠ থেকে তিনি বলেন, ‘অবস্থা এমন যে এরা এত নীচু মানসিকতার যে জেলে থেকেও সরকার চালানোর চেষ্টা করছেন। পশ্চিমবঙ্গেও এর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তৃণমূলের এক মন্ত্রী শিক্ষক দুর্নীতিতে এখনও জেলে। ঘর থেকে মিলেছিল নোটের পাহাড়। তা সত্ত্বেও কুর্সি ছাড়তে চাননি। নির্মমভাবে জনতার আবেগকে পদদলিত করা হয়েছে।’ এখানেই থামেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। রেশন দুর্নীতি নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। আবারও নাম না করে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে নিশানা করেন তিনি। মোদী বলেন, ‘রেশন দুর্নীতির পরেও খাদ্যমন্ত্রী জেলযাত্রার পর কুর্সি ছাড়তে চাননি। সংবিধান, জনতার কোনও পরোয়া করেননি।’ তবে এই নিয়ে এখন পর্যন্ত তৃণমূলের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।
বাংলায় মন্ত্রীরা জেলে থেকেও মন্ত্রীত্ব সামলাচ্ছেন : মোদী।

- Advertisement -