নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: নির্যাতিতা মহিলার স্বামী বাড়িতে থাকেন না। মা ও মেয়ে থাকেন বাড়িতে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের এক মহিলা নেত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার হল নদীয়ার চাপড়া থানা এলাকার এক ভিলেজ পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ জুলাই স্থানীয় এক তৃণমূল নেত্রী চাপরা রানাবন্ধ এলাকা থেকে চাপড়া খ্রীস্টান পাড়ায় আসছিল। সেই সময় খ্রিস্টান পাড়া এলাকাতেই মদ্যপানের আসর বসিয়েছিল ওই ভিলেজ পুলিশ সহ আরো কয়েকজন। এই সময় ওই তৃণমূল নেত্রীকে ভিলেজ পুলিশ তার হাত ধরে টানাটানি করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। শুধু তাই না, ওই মহিলা সেখান থেকে কোনোক্রমে পালিয়ে বাড়িতে চলে যায়। মহিলাকে পিছু ধাওয়া করে ভিলেজ পুলিশ।
মহিলার বাড়িতে গিয়ে তার দরজায় ধাক্কাধাক্কি এবং লাথি মারে। ঘর থেকে বাইরে বের করার চেষ্টা করে। তৎক্ষণাৎ ওই মহিলা চাপড়া থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে চাপড়া থানার পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই ভিলেজ পুলিশ ও তার দলবল সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপরেই ওই মহিলা চাপড়া থানায় ভিলেজ পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তৃণমূল নেত্রী তথা ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে চাপড়া থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশ সহ আরো তিনজনকে গ্রেফতার করে। বুধবার ধৃত মূল অভিযুক্ত ও আরো তিনজনকে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে তোলা হয়। একই সাথে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার চাপড়া থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন তৃণমূল নেতাও রয়েছেন বলে জানাগেছে। যদিও এ প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখ খুলতে না চাইলেও, বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয় তীব্র নিন্দা। অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে এই ধরনের দোষীদের কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এমনটাই দাবি বিজেপির।