বন্দনা ভট্টাচার্য্য, হুগলী: বেপোরোয়া টোটোর ধাক্কায় হাতের আঙ্গুল কাটা পরলো এক মহিলা নৃত্য শিল্পীর। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলীর চুঁচুড়ার রথতলা সংলগ্ন এলাকায়। আহত মহিলার নাম দীপিকা দাস। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীপিকা একজন নৃত্য শিল্পী। একটি নাচের স্কুলে তিনি নাচ শেখান। এদিনও তিনি নাচের স্কুলে গিয়েছিলেন। রাত দশটা নাগাদ স্কুটি চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হঠাতই একটি টোটো বোপোরোয়া গতিতে ডান দিক দিয়ে ওভার টেক করতে গিয়ে দীপিকা দাসের ডান হাতে ধাক্কা মারে। ধাক্কা মেরেই টোটো সমেত চালক চম্পট দেয়। খুব যোরে ধাক্কা লাগার কারণে কিছুক্ষণের জন্য দীপিকা দাস সম্বিত হারিয়ে ফেলেন। সম্বিত ফিরলে দেখেন, ডান হাতের অনামিকার এক কর নীচ থেকে কেটে পড়ে গেছে। তৎক্ষনাৎ তাকে চুঁচুড়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই অস্ত্রপচার করে কাটা আঙ্গুলের বেরিয়ে থাকা হাড়ের অংশ বাদ দিতে হয়।
ঘটনার কথা বলার সময় দীপিকা দাস জানালেন, টোটোর সংখ্যা না কমালে এমন অনেক দুর্ঘটনার সাক্ষী হতে হবে সাধারণ মানুষকে। দীপিকার স্বামী সুদীপ দাস বলেন, দিনের পর দিন টোটোর দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। নাজেহাল হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অবিলম্বে শহর জুড়ে টোটোর দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই প্রশঙ্গে হুগলীর কংগ্রেস নেতা মইনুল হক বলেন, একটা সময় রাস্তায় অসংখ্য রিক্সা ছিল। এরপর টোটো এলো। এর একটা ভালো দিক হল অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকের পক্ষে রিক্সা চালানো সম্ভব ছিলনা। তারা টোটো চালিয়ে দারিদ্র্যতার বিরুদ্ধে লড়াই করে বেকারত্ব দুর করেছে। কিন্তু সংখ্যায় এত বেশী হয়েছে যে সরকারি নিয়ন্ত্রন না থাকায় পথ চলতি মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
নিয়ন্ত্রণ মানে রাস্তায় চার জন ট্রাফিক ডান্ডা হাতে তাড়া করছে, এটা নয়। টোটো বন্ধ হলেও অসুবিধা। তাই সরকারি নিয়ন্ত্রণে সিস্টেমেটিক ভাবে চলুক। টোটো নিয়ে রাজনীতি করার কোনো অবকাশ নেই।
চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার আহত দীপিকা দাসের বাড়িতে গিয়ে তার সাথে দেখা করেন। এবং আগামী দিনে ওনার পাশে থেকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন।