New initiative of Kolkata Municipality
নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: কলকাতা পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে লালবাজারের তরফে থানায় থানায় বিশেষ ফর্ম পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। যে ফর্মে এলাকায় পুরুষ ও মহিলা যারা পরিচারক বা পরিচারিকা হিসেবে কাজ করতে আসছেন, তাদের ডিটেলস নেওয়া হবে। বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে গাড়ির চালকদেরও। ঘর বা ফ্ল্যাট যারা ভাড়া নিচ্ছে, তাদেরও ডিটেলস রাখা হবে। প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। পঞ্চসায়রের ঘটনার পর এমনই সিদ্ধান্ত কলকাতা পুলিশের। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বৃদ্ধ দম্পতিরা ‘সফট টার্গেট’ ছিল আশালতাদের। পরিকল্পনামাফিক তাই আয়া সেন্টারের মাধ্যমে নিউ গড়িয়ার অভিজাত আবাসনের নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ দম্পতির দেখভালের কাজ নেয় আশালতা। গত ১৭ অগাস্ট কাজে যোগ দেয় সে। গোটা বাড়ি দিন তিনেক রেকি করে আশালতা। জানতে পারে, বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে জার্মানিতে, মেয়ে মুম্বইতে থাকে। বাবা-মায়ের দেখভালের জন্য বাড়িতে নগদ টাকা মজুত রাখা রয়েছে, তা-ও জেনে যায় আশালতা। দেখে কোথায় টাকাপয়সা, গয়নাগাটি রাখা থাকে। সময় নষ্ট না করে বৃহস্পতিবারই খুন ও লুটপাট সারে সে।
ঘটনার সূত্রপার হয়েছিল এক বৃদ্ধা খুনের পর থেকেই। পুলিশ দ্রুত সেই খুনের কিনারা করে। সামনে আসে বাড়িতে কর্মরত আয়ার কীর্তি। তিনদিন ধরে গোটা বাড়ি ঘুরে রেকি করে, সিসি ক্যামেরার কানেকশন বিচ্ছিন্ন করে ঠান্ডা মাথায় নিউ গড়িয়ার অভিজাত আবাসনে বৃদ্ধাকে খুন করা হয় বলে জানতে পারল পুলিশ। লুটপাটের পর মোবাইল সুইচড অফ করে গা ঢাকা দিয়েছিল খুনি আয়া ও তার প্রেমিক। কিন্তু একের পর এক ডেরা বদল করেও লাভ হল না কিছুই। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বৃদ্ধা খুনের কিনারা করে ফেলে পুলিশ। গ্রেফতার হয় আয়া আশালতা এবং তার প্রেমিক জালাল মীর। আর নিউ গড়িয়ার এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল কলকাতা পুলিশ।